Trending

হাঁস পালন-জাত নির্বাচন ঘর খাদ্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা- Duck Rearing

হাঁস পালন

হাঁস পালন-জাত নির্বাচন ঘর খাদ্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা: হাঁস অ্যানাটিডি পরিবারের পাখিদের বেশ কিছু প্রজাতির একটি কমন নাম। এই প্রজাতির মধ্যে রাজ হাঁস  ও মরাল হাঁস একই প্রজাতির হলেও ন্যান্যদের তুলনায় এরা আকারে বেশ বড় হয়ে থাকে। আজকে আমরা হাঁস পালন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিব।

প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি হাঁস পালন সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাবেন। যার উপর ভিত্তি করে হাঁস পালন শুরু করে দিতে পারবেন।

হাঁসের জাত-Duck Variety

হাঁসের বেশকিছু জাত আছে । আর কোন জাতের হাঁস একজন খামারি পালন করবে তা নির্ভর করে মূলত তার হাঁস পালনের উদ্দেশ্যের উপর।  খামারির  উদ্দেশ্য যদি থাকে ডিম পাড়া, তাহলে সে এক জাতের হাঁস পালন করবে। আর তার উদ্দেশ্য যদি থাকে মাংসের জন্য তাহলে আরেক জাতের হাঁস পালন করবে।

তবে ডিম এবং মাংসের জন্য কিছু নির্দিষ্ট জাত আছে যেগুলো পালন করলে ডিম এবং মাংস উভয়ই ভাবে লাভবান হওয়া যায়। হাঁসের ডিম পাড়া হাঁসের জাত এবং মাংসের  আলাদা আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হলো।

ডিম পাড়া হাঁসের জাত গুলো হলো- These are the laying duck breeds :

  • জিনডিং জাতের হাঁস।
  •  ইন্ডিয়ান রানার হাঁস তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
  • খাকি ক্যাম্পবেল।
  • মিসেস ক্যাম্পলে

মাংস উৎপাদনের জন্য- Duck for meat Production:

  • পিকিং
  • রুয়েল ক্যায়ুগা
  • আয়লেশবারি,
  •  মাসকোভি
  •  সুইডেন হাঁস।
  • খাকি ক্যাম্পবেল।
  • মিসেস ক্যাম্পলে

এই সকল জাতের হাঁসগুলো মাংস উৎপাদনের জন্য  খুবই উপযোগী জাত হিসেবে পরিচিত সাধারণত পুরুষ হাঁসের ওজন হয় ৫ কেজি আর মাহিলা হাঁসের ওজন ৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

হাঁস পালনে ঘর ব্যবস্থাপনা- Duck House Management

পূর্ণবয়স্ক একটি হাঁসের জন্য এক বর্গফুট জায়গা দরকার।  এবার আপনি কতগুলো হাঁস পালন করবেন তার ওপর নির্ভর করবে আপনার ঘরের সাইজ। আমরা যখন হাঁসের ঘর নির্মাণ করবো, তখন বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেমন-

  1.  ঘরে আলো বাতাসের চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  2. ঘরটি আরামদায়ক হতে হবে ।
  3. ঘরের চালা দিয়ে যেন পানি না পরে।
  4.  বেঁড়া গুলো মজবুত হতে হবে যাতে করে চোর বা বন্য  জন্তু-জানোয়ার যেন সহজে হামলানা করতে না পারে।
  5.  ডিম পাড়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  6. পানি ও খাবার পাত্র সহ খাবারের ব্যবস্থা থাকতে।
  7. দুর্গন্ধ মুক্ত হতে হবে।
  8. ঘরের কাছাকাছি সাঁতার কাটার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  9. পায়খানা বা মলমূত্র সহজে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  10.  হাঁসের বিছানা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

হাঁসের খাদ্য ব্যবস্থাপনা- Duck Food Management

খাদ্য প্রতিটি প্রাণীর জন্য এক অপরিহার্য উপাদান। এর উপরে নির্ভর করে অনেকাংশেই হাঁসের বৃদ্ধি এবং তার ডিম উৎপাদনের পরিমণ। আমরা যদি হাঁস পালন করে লাভবান হতে চাই সে ক্ষেত্রে আমাদের খাদ্যের সঠিক মাত্রায় পুষ্টি আছে কিনা সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

তাই আজকে আমি আপনাদের ১০০ কেজি খাদ্যের একটি তালিকা প্রকাশ করব যা  আপনি আপনার চাহিদামত তৈরি করে নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে শুধু পরিমাণ কমবেশি করবেন।

 বিবরণহাঁসের বাচ্চার বয়স যখন ০-৬ সপ্তাহ পর্যন্তপূর্ণ বয়স্ক  হাঁসের খাদ্য তালিকাডিম পাড়া হাঁসের জন্য খাদ্য তালিকা
গম ভাঙ্গা৩৬.০০৩৬.০০৩৬.০০
ভুট্টা ভাঙ্গা১৮.০০১৮.০০১৭.০০
ধানের চালের কুঁড়া১৮.০০১৭.০০১৭.০০
সয়ামিল২২.০০২৩.০০২৩.০০
প্রোটিন কনসেন্ট্রট২.০০২.০০২.০০
ঝিনুকের চূর্ণ২.০০২.০০৩.৫০
ডিসিপি পউডার১.২৫১.২৫০.৭৫
ভিটামিন খনিজ মিশ্রিত০.২৫০.২৫০.২৫
লাইসিন০.১০০.১০০.১০
মিথিওনিন০.১০০.১০০.১০
লবন০.৩০০.৩০০.৩০
মোট১০০ কেজি১০০ কেজি১০০ কেজি

উপরোক্ত তালিকা মোতাবেক খাদ্য তৈরি করে, হাঁসের ছোট বাচ্চা তার স্বাধীন মতো খাবার খাওয়াতে হবে। এবং বড় হাঁসকে দিনে দুবার পেট পরিপূর্ণ করে খাবার দিতে হবে। তাতে করে একদিকে যেমন হাঁসের মাংসের  উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে অন্য দিকে  ডিম উৎপাদনও বেড়ে যাবে।

হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা- Duck Disease Prevention

হাঁস পালন লাভজনক ব্যবসা। এর তেমন কোন রোগ নেই বললেই চলে। দু-একটি রোগ  ছাড়া হাঁসের তেমন কোনো রোগ নেই বল্লে চলে। হাঁসের যে সকল রোগ পরিলক্ষিত হয় তার  টিকা প্রদান করে দিলে হাঁসের তেমন কোনো রোগই হয়না। তাই হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাগে বিভক্ত করতে পারি একটি টিকা প্রদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা। আরেকটা হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রেখে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা ।

রোগের লক্ষণ:
হাঁস পালন-জাত নির্বাচন ঘর খাদ্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা
হাঁস পালন-জাত নির্বাচন ঘর খাদ্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা
  1. হঠাৎ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
  2. পানি খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়।
  3. অনেক সময় ঠোঁটের রং পরিবর্তন হয়।
  4. পালক গুলো উস্কখুস্ক দেখায়।
  5. পাখনা কখনো কখনো ঝুলে যায় ।
  6. ডিম দেওয়া হাঁসের ডিম দেওয়া কমে যায়।
  7. আলো দেখলে ভয় পায়।
  8. নাক-মুখ দিয়ে তরল পদার্থ বের হয়।
  9. অনেক সময় কখনো কখনো পেট খারাপ হয়ে যেতে পারে।
  10. এক জায়গায় বসে থাকতে পছন্দ করে ।
  11.  হঠাৎ চলা বন্ধ করে দেয়।

টিকা প্রদানের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা- Duck Vaccination :

আমরা যদি হাঁসকে রোগ মুক্ত রাখাতে চাই তাহলে টিকা প্রদানের ছাড়া কোন বিকল্প নেই । আমরা যখন হাঁসকে টিকা দিব তখন খেয়াল রাখতে হবে হাঁস  সুস্থ  আছে কিনা? কারণ সুস্থ অবস্থায় হাঁসকে টিকা প্রদান করতে হয়। তাছাড়া টিকা দেয়ার আগে হাঁসকে কৃমি মুক্ত করে নিতে হবে তা নাহলে আশানুরুপ টিকার ফল পাওয়া যাবেনা। হাঁসের টিকাটি কোন অবস্থাতেই সূর্যের আলোতে আনা  যাবেনা।

হাঁসের টিকা প্রয়োগ বিধি:

২১ ‍দিন বয়েসের বাচ্চাকে প্রথম টিকা দিতে হবে। ২য় বার হলো ৩৬ দিন বয়েসে  ।  তার পড় ৬ মাস অন্তর অন্তর এই টিকা প্রদান করতে হয়।  হাঁসের প্রথম টিকার নাম হলো ডার্ক প্লেগ। ১০০ মাত্রার ভায়ালে ১০০ সিসি ডিস্টিল অথবা সিশুদ্ধ পানি মিশ্রিত করে ১ সিসি মাত্রায় বুকের মাংসে প্রয়োগ করতে হয় ছয় মাস অন্তর অন্তর এই টিকা প্রয়োগ করতে হবে।

এর সরকারী দাম ৩০ টাকা মাত্র। এছাড়াও হাঁসকে ৭০ দিন বয়সে কলেরা টিকা দিতে হবে যা পারবর্তী ৬ মাস পর পর নিয়মিত দিতে হবে।

এছাড়াও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে হাঁসের রোগ প্রতিরোধ করা যায়। যেমন হাঁসের থাকার যায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। আক্রান্ত হাঁসকে আলাদা রাখা। রোগমুক্ত হাঁস ক্রয় না করা। বাহিরের কোন হাঁস খামারে হাঁসের সাথে মিশতে না দেওয়া। পরিষ্কার খাবার খাওয়ানো। ঘর জীবানু মুক্ত রাখা ইত্যাদি।

হাঁসের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা- Duck Treatment

সাধারণত মুরগির তুলনায় হাঁসের রোগ কম হয়ে থাকে। তেবে যেকোনো বয়সে হাঁসের রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।  কিছু রোগ আছে যেগুলোতে হাঁসের মৃত্যুর হার বেশি। তার মধ্যে অন্যতম ডার্কপ্লেগ, কলেরা ও হেপাটাইটিস । এছাড়া অন্যান্য যেগুলো আছে সেগুলো তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।

যে কোন ধরনের রোগের লক্ষণ বা রোগ দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন ভাবেই না জেনে কোন প্রকার ঔষধ খাওয়ানো যাবে না।

শেষ কথা:

সবশেষে বলা যায় হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। আমরা যদি আমাদের মাছের পুকুরে হাঁস পালন করি তাহলে একদিকে যেমন আমাদের হাঁস থেকে লাভবান হবো। অন্যদিকে হাঁসের পায়খানা খেয়ে মাছ বড় হবে, দু-ভাবেই আমরা উপকৃত হবো । এই সম্মিলিত খামার ব্যবস্থাপনা এনে দিতে পারে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি। তাই সবাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করে হাঁস পালন করি দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখি।

ধন্যবাদ সবাইকে আমার এই লেখা পড়ার জন্য। আপনাদের যদি আরো কোন বিষয়ে জানার থাকে আমাদেরকে জানাবেন আমরা পরবর্তীতে আপনার উত্তর দিব।

   একই  বিষয় পড়তে পারেন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.