Uncategorized
Trending

সঠিক তথ্য সাদা স্রাব হবার কারণ ও এর প্রতিকার ঘরোয়া পদ্ধতিতে

লিউকোরিয়ার কারন ও প্রতিকার

সাদা স্রাব হবার কারণ ও এর প্রতিকার: অনেক সময় দেখা যায় মহিলাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া হয়ে থাকে। তবে এটা যদি প্রাথমিক পর্যায়ে হয় তাহলে খুব একটা সমস্যা দেখা যায়না। তখন এই বিষয়টা নিয়ে কোন চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু এটার পরিমাণ যদি বেশি হয় তাহলে দেখা যায় নানা  ধরনের সমস্যা।

তাই আজ আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো সাদা স্রাব হবার কারণ ও এর প্রতিকার ।এছাড়াও এই রোগ হলে আমাদের কি করনীয় কি? এটাকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়? আর এই রোগ এর চিকিৎসা  বিষয়ে বিস্তারিত।

সূচিপত্র

সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া কি?

এই রোগটি হলো এমন একটি রোগ যা স্ত্রী যোনি পথ দ্বারা নির্গত এক জাতীয় পিচ্ছিল সাদা বর্ণের পদার্থ যা ব্যবপক আকার ধারণ করলে অনেক সময় ধূসর , সবুজ বা হলুদ বর্ণের হতে পারে। মোট কথা এটা হলো তরল বা শ্লেষ্মা নিঃসরণ যা যোনিকে আর্দ্র এবং পিচ্ছিল রাখে।

 সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া হবার কারণ

এই রোগটি সাধারণত মেয়েদের বয়ঃসন্ধি, ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের ফলে লিউকোরিয়া বা সাদা স্রাব হতে পারে। এছাড়াও আরো অনেব কারণ রয়েছে এই রোগটি হবার পিছনে তা নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অপরিস্কার থাকার কারনে

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হচ্ছে ঈমানের একটি অঙ্গ। আর তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকলে অনেকগুলো রোগের হাত থেকে খুব সহজেই রক্ষা পাওয়া যায়। সাদাস্রাব হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকা। ভ্যাজাইনা যদি সবসময় ভিজা থাকে। মাসিকের সময় একই প্যাড বার বার ব্যবহার করা হয়।

অনেকেই আবার পুরাতন ময়লা কাপড় ব্যবহার করে থাকে। আবার কেই কেই গোসলের সময় বা অন্য সময় ঠিকমত পরিস্কার করেনা । আর যারা এই নোংরা ভাবে বসবাস করেন তাদের এই রোগটি বেশি হয়ে থাকে।

জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে

অনেক সময় জন্মনিয়ন্ত্রকারী ওষুধ সেবন করলেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে যারা জন্মনিয়ন্ত্রন ওষুধ খায় এবং যারা জন্মনিয়ন্ত্রন ওষুধ খায়না তাদের মধ্যে যারা ওষুধ খায় তাদের সাদা স্রাব হবার সংখ্যা বেশি। এ থেকে প্রতিমান হয় যে জন্মনিয়ন্ত্রন ওষুধ সেবন করলেও এই রোগ দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস ও অ্যানিমিয়ার কারনে

যাদের ডায়াবেটিস হয় তাদের শরীরে দেখা যায় এক ধরনের হরমোনের ঘাটতি । আর এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে মহিলাদের সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া হওয়ার প্রবনতা দেখা দিতে পারে।

ব্যাক্টোরিয়াল ভ্যাজিনেসিস

এই রোগটি যৌনাঙ্গে দেখা দিলে যোনিপথে জীবাণুর জন্য পুষ্টি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জীবানু বংশবৃদ্ধি করে অনেক বেশি হারে। আর এই জীবাণুর  আক্রমণ দ্বারা যৌনাঙ্গে দেখা যায় চুলকানি সহ সাদা স্রাব এর মত রোগ । আর এই রোগটি সাধারণত ১৫ বছরের মেয়েদের থেকে শুরু করে ৪৪ বছরের মেয়েদের বেশি হারে হয়ে থাকে।

এছাড়াও আরো বেশ কিছু কারণে এই রোগ হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো:

  1. বিশেষ অংঙ্গে থ্রাশ দেখা দিলে।
  2.  ট্রিকোমোনিয়াসিস এর মত যৌনসংসর্গ রোগদ্বারা সংক্রমণ ঘটলে।
  3. ক্ল্যামিডিয়ায় আক্রান্ত হল।
  4. গনেরিয়া হলে।
  5. জেনিটাল হারপিস দেখা দিলে।
  6. পেলভিক ইনফ্ল্যামেটোরি জিজিজ দেখা দিলে।
  7. ভ্যাজিনাল ক্যান্সার হলেও এই রোগ দেখা যায়।

সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা

এই রোগটি সাধারণত খুব ক্ষতিকর রোগ নয় । এটা প্রথমিক পর্যায়ে থাকলে বা মৃদু আকারে দেখা দিলে এর কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই বল্লেই চলে। তবে যদি বেশি পরিমানে দেখা দেয় তখন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমরা যদি একটু সচেতন হই তাহলে খুব সহজেই  এই রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি। আর এই রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য যে সকল নিয়ম কানুন আমাদের মেনে চলা দরকার তাহলো।

  • মাসিকের একই প্যাড বার বার ব্যবহার না করা।
  • মাসিকের সময় নোংরা কাপড় ব্যবহার না করা।
  •  গোসলের সময় বা অন্যান্য যে কোন সময় যৌনাঙ্গ ভালভাবে পরিস্কার করা।
  • সব সময় মানুষিক দু-চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
  • রাত্রে কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
  • ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া যাবেনা।
  • অ্যালার্জি যুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা।

সাদা স্রাবা বা লিউকোরিয়া নিরাময়ে ঘরোয়া পদ্ধতি

যদি কোনো কারণে কারো লিকোরিয়া বা সাদা স্রাব হয়ে যায়। তাহলে খুব সহজেই আপনি অল্প একটু সচেতন হলেই  সারিয়ে তুলতে পারেন আপনার এ সমস্যা । আর এই সমস্যাকে অত জটিল করে দেখার কোন কারণ নেই। যেহেতু খুব সহজেই এই রোগ নিরাময়যোগ্য। তাই শুরুতে যদি কেউ এই ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো অনুসরন করে, খুব সহজেই সারিয়ে তুলতে পারেন এই রোগটি। নিম্নে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি প্রদান করা হলো এখান থেকে আপনি যে কোন একটি আপনার সুবিধা  অনুযায়ী ব্যবহার করে সারিয়ে তুলন আপনার এই রোগটি।

সাদা স্রাব নিরাময়ে মেথির ব্যবহার

এই রোগ নিরাময়ে মেধির ব্যবহার হয়ে আসছে আদিকাল হতে। যদি কেহ সেদ্ধ করা মিথির বীজ খায় তহলে সাদা স্রাব ভাল হয়ে যায়। এছাড়াও হাফ লিটার পানিতে কিছুটা মেথি দিয়ে সেদ্ধ করতে হবে পানি অর্ধেক হওয়া  পর্যন্ত ।এর পর সেই ঠান্ডা পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন এভাবে ৩ থেকে ৪ দিন খাবেন দেখবেন আপনার সমস্যার সমাধান।

ঢেঁরস দিয়ে সাদা স্রাব ভাল করার উপায়

আপনার যদি এই রোগটি তীব্র হয়ে থাকে তহলে এই বাড়ীর কয়েকটি খাবার ঢেঁরস পানিতে চটকে তার পর সেই পানি সেদ্ধ করে খেতে পারেন আর এভাবে যদি আপনার ক্ষেতে সমস্যা হয় তাহলে এটি দইয়ের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন। এটা সাদা স্রাব ভাল করার জন্য খুবই কাজ করে। অল্প কয়েকদিন খাবার পরেই দেখবেন। আপনার সাদা স্রাব ভাল হয়ে গেছে।

সাদা স্রাব নিরাময়ে ধনিয়ার ব্যবহার

আপনি ইচ্ছে করলে ধনিয়া রাত্রে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে পানিটা ছেকে নিয়ে খালি পেটে পান করুন । এভাবে ১ সপ্তাহ পান করে দেখুন আপনার সাদা স্রাব নিরাময় হয়ে গেছে। আর এই পদ্ধতিটি  অনুসরণ করে অনেকেই এই রোগ ভাল করতে পেরেছে।

আমলকি দ্বারা সাদা স্রাব নিরাময়

আমরা জানি আমলকি হচ্ছে ভিটামিন ’সি’ ভরপুর । আর তাই আমলকি কে বলা হয় জীবন্ত ভিটামিন সি ক্যাপসুল। তাই যদি কেহ নিয়মিত আমলকি খায় তাহলে একদিকে যেমন তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে সাদা স্রাব নিরাময়েই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। আপনি  ইচ্ছে করলে এটা কাচাঁ , গুড়া , মোরব্বা বা ক্যান্ডি তৈরি করে খেতে পারেন।

লিউকোরিয়া নিরাময়ে তুলসি

এই তুলসির পাতা আদিকাল হতেই বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে মানুষ ব্যবহার করে আসছে। আর তাই কারো যদি সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া হয়ে থাকে । তাহলে তুলসির পাতা পানিতে সেদ্ধ করে নিয়ে যখন এটা ঠান্ডা হবে তখন এর সাথে কিছুটা মধু যোগ করে খেতে পারেন। এই মিশ্রণটি দিনে দু-বার এক সপ্তাহ খান, দেখবেন আপনি ভাল হয়ে গেছেন।  তাছাড়া তুলসির পাতা দুধের সথে মিশিয়েও খাওয়া যায়।

ভাতের মাড় দ্বারা সাদা স্রাব নিরাময়

খুবই সহজ একটি পদ্ধতি সাদা স্রাব নিরাময়ে ভাতের মাড়। এটা সবার নাগালের মধ্যে তাই অনেকেই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে এই রোগ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আপনার যদি সাদা স্রাব হয়ে থাকে তবে প্রতি দিন নিয়ম করে ভাতের মাড় খান ।

সাদা স্রাব বা লিউকোরিয়া সারাতে পেয়ার পাতার ব্যবহার

পেয়ার পাতা পানিতে সেদ্ধ করে এটা এবার ঠন্ডা হতে দিন। এবার এই ঠান্ডা পানি প্রতিদিন পান করুন । এভাবে প্রতিদিন পান করার ফলে ৮ থেকে ১০ দিন পর দেখবেন আপনার সমস্যার সমাধান হয়েগেছে। এছাড়াও কারো যদি যোনিতে চুলকানি থাকে তবে তা পেয়ার পাতার রস খেলে ভাল হয়ে যাবে।

সাদা স্রাব নিরাময়ে হোমিও চিকিৎসা/ সাদা স্রাব এর জন্য হোমিও ওষুধ

এই রোগ নিরাময়ের জন্য বেশ কিছু হোমিও চিকিৎসা আছে যে ওষুধ গুলো সেবন করলে আপনারা সহজেই এই রোগ থেকে নিরাময় থাকতে পারবেন। বিভিন্ন লক্ষণ ভেদে এবং রোগের তীব্রতা অনুযায়ী এই রোগের হোমিও চিকিৎসা দেয়া হয়। আর আপনার সমস্যা যদি তীব্র হয়ে থাকে তাহলে ভাল একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিচের ওষুধ থেকে আপনার সমস্যা অনুযায়ী সেবন করতে পারেন।

ওষুধের নাম: ক্যালকেরিয়া কার্ব

কখন খাবেন:  দুধের মতো সাদা স্রাব হলে এবং জরায়ুতে জ্বালা, চুলকানি ও বেদনা হলে  এই ওষুধটি সাধারণত খেতে হয় ।  অনেক রোগীই এই ওষুধটি খেয়ে ভাল হয়ে গেছে।

ওষুধের নাম : অ্যাসিড নাইট্রিক

কখন খেতে হবে:  সাধারণত অনেকদিন যাবত অসুখে আক্রান্ত হয়ে বা অতিরিক্ত মাত্রায় পারদ জাতীয় ওষুধের

প্রতিক্রিয়ায় এ রোগ হলে, এই ওষুধটি খুবই উপকারী। যখন আপনার সাদা স্রাব ধোঁয়াটে গাঢ় হয়ে পাঁচ-ছয় দিন পরে পাতলা

জলের মতো বা মাংসধোঁয়া জলের মত দুর্গন্ধ স্রাব/লিউকোরিয়া হলে এই ওষুধটি প্রযোজ্য।

সাদাস্রাব নিরাময়ে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ

যখন রোগটি তীব্র আকারে দেখা দেয় তখন আপনি ডাক্তারের সাথে পরামর্শক্রমে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেতে পারেন। এতে

করে সাথে সাথে আপনি ভাল ফল পাবেন। আর তাই যারা খুব তাড়াতাড়ি এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে চান তাড়া ইচ্ছে করলে

নিম্নলিখিত ওষুধগুলোর মধ্যে থেকে যে কোন একটি বা ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে খেতে পারেন। তাহলে আপনি খুব

তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।

  • Lecosan ( Anti leucorrhoeal
  • Gynomix
  • Cef-3 capsul

তবে যেই ওষুধই আপনি খান অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শক্রমে তা খেতে হবে। (কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন)

শেষ উপদেশ

যদি  ভালভাবে বাঁচতে চান তাহলে জানতে হবে। শুধু জানলেই চলবেনা এই নিয়ম কানুন গুলো মানতেও হবে। তাই উপরের

সাদা স্রাব হবার কারণ ও এর প্রতিকার  বিষয়ে বিস্তারিত পড়ে এই রোগটিকে আমাদের থেকে দূরে রাখতে হবে।

আমাদের  এই রোগ যেন না হয়ে তার জন্য সবসময় সচেষ্ট থাকতে হবে। যদি বিষয়টি পড়ে আপনার ভাললেগে থাকে তবে

কমেন্টস্ সেকশনে জানাবেন। এবং আপনার যদি কোন বিষয়ে জানার আগ্রহ থাকে আমাকে জানাবেন পরবর্তীতে সেই

বিষয়ে লিখব। ধন্যবাদ লেখাটি প্রথম থেখে শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।

আরো পড়তে পারেন:

১. দুধ ম্যাসাজ করার পদ্ধতি

২. কলা খাওয়ার উপকারিতা

৩. রসুন খাওয়ার উপকারিতা।

৪. যৌবন শক্তি বৃদ্ধির উপায়।

৫. যোনি ফর্সা করার উপায়।

৬. যোনি টাইট করার উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *