Uncategorized
Trending

যোনিতে ইনফেকশন হলে করনীয়

যোনিতে ঘা হলে করনীয়

যোনিতে ইনফেকশন হলে করনীয়: যোনিতে ইনফেকশন মহিলাদের একটি কমন রোগ । অনেক মহিলাই এই রোগের শিকার হয়ে থাকেন।  ২০১৬ সালে  এক জরিপে  দেখা গেছে  প্রতি ৪ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ৩ জনের যোনিতে ইনফেকশন হয়ে থাকে। আমাদের অনেক মা বোন আছে যার তাদের এই রোগের কথা বলতে চায়না বা বলেনা লজ্জায় ।

আর এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর দেখা যায় এটা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তাই এই রোগের কারণ ,এর প্রতিকার এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কে প্রতিটা মহিলার  জানা খুবই প্রয়োজন। আজকে আমি আপনাদের এই সমস্যার সকল গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো । যা আপনার জীবনে খুবই কাজে দিবে।

আপনি যদি এই যোনিতে ইনফেকশন হলে করনীয় লেখাটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে আপনি কোন দিনও আর  এই জাতীয় সমস্যার সন্মুখিন  হবে না।

যোনিতে ইনফেকশন হবার কারণ

কয়েকটি কারণেই যৌনাঙ্গে ইনফেকশন দেখাদিতে পারে তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে ভ্যাজাইনাল ইস্ট । এটা একটি সাধারণ ঘটনা । আর এই জীবানু দ্বার আক্রমণ প্রতিটা মহিলা জীবনের কোনা কোন সময় হয়ে থাকে।  নারীদের যৌনাঙ্গে ইস্ট সংক্রমণ হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় বা স্বাভাবিকের তুলনায় যৌনাঙ্গে ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া।

আরো সহজ করে বলতে গেলে আমাদের যৌনাঙ্গে সাধারণত এই ইস্ট ফাঙ্গাসটি আছে কিন্তু কোন কারণে যদি এর পরিমান বেড়ে যায় বা এটা যদি বসংবিস্তার করার অনুকূল পরিবেশ পায় তখন অত্যাধিক হারে বেড়ে যায়, তখন দেখা দেয় যোনি ইনফেকশণ।

এছাড়াও আরো যে সকল কারণ রয়েছে এই রোগটির পিছনে তাহলো –
  1. অনেক সময় গর্ভবতী হবার কারণেও এ রোগটি হয়ে থাকে।
  2. কারো যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস থাকে তাহলেও এ রোগটি হয়।
  3. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।
  4. অনিয়ন্ত্রিত যৌন মিলন  কনডম ছাড়া করলে।
  5. এই রোগ্ দ্বারা আক্রান্ত কোন রোগীর পেন্টি বা অন্তরবাস পরিধান করলে।
  6. বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগের কারনে।

যোনিতে ইনফেকশন বুঝার লক্ষণ

অনেক মহিলা আছেন যারা বুঝতেই পারেনা তাদের যোনিটি ইনফেকশন হয়েছে। আর এর জন্য তারা কি করণীয় ? এবং কি ধরনের চিকিৎসা নিতে হবে? তা তারা জানে না। আর এই সমস্যা আমাদের সমাজে অহরহ হয়ে থাকে । থাক সে শিক্ষিত বা অ-শিক্ষিত সবাই একই রোগে আক্রান্ত হয়ে আছে। আর যারা এই ধরনের পূর্বের ধ্যান ধারনায় বা চিন্তাভাবনায় আছেন তাদের জন্য বলা ।

আর নয় অবহেলা এখনই সচেতন হোন আর গড়েতুলন সুস্থ্য জীবন, সুস্থ্য সমাজ, সবশেষে সুস্থ্য মা – সুস্থ্য শিশু।  নিম্নে আমি আলোচনা করবো কোন লক্ষ্যন গুলো দেখা দিলে বুঝতে পারবেন আপনার যৌনাঙ্গটি ইনফেকশন হয়েছে আর তা হলো-

  1. এই ধরনের ইনফেকশন দেখা দিলে প্রস্রাবের সময়  যোনি খুব জ্বালা পোড়া এবং একই সাথে ব্যাথা অনুভব করবে।
  2.  সবসময় যোনিদ্বারের( ভালভা) টিস্যুতে এবং যোনিতে অস্বস্তি লাগবে।
  3. যৌনমিলনের সময় হালকা থেকে তিব্র ( রোগের তীব্রতার উপর ভিত্তিকরে) যন্ত্রণা হবে।
  4. অনেক সময় অসুখটি তীব্র হলে যৌনাঙ্গে ক্ষত দেখা যাবে।
  5. সাধারনত এই রোগটি হলে যোনিদ্বার ( ভালভা) ফুলে যায় এবং লাল রং ধারণ করে।
  6. ইনফেকশনের ফলে যোনিদ্বারে বা এর আঁশে পাঁশে র‌্যাশ দেখা যায়।
  7. এই রোগটি হলে মাসিক বা স্রাবে সাদা ছানার মত দেখা যায় এবং তা দুর্গন্ধ হয়।
  8. সবসময় যৌনাঙ্গ থেকে জলের মত পদার্থ নির্গত হয়।

যোনিতে ইনফেকশন হলে করনীয়/যোনিতে ঘা হলে করনীয়

যদি কোন কারণে যোনিতে ইনফেকশন দেখা যায় সে ক্ষেত্রে আমাদের সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত ।  একই সাথে আরো কিছু কাজ আমাদের করণীয় আছে যে গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আপনি ইচ্ছে করলে আমাদের উল্লেখ করা ওষুধ গুলোও ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে ব্যবহার করতে পারেন।

এন্টি -ফাঙ্গাল ডোজের ওষুধ

এই ওষুধটি হলো মুখ দিয়ে খাওয়ার ওষুধ । অনেক সময় রোগটি পরিমানে কম দেখা দিলে একবার ফ্লাকোনাজোল খেতে হয়। আর রোগটি যদি তীব্র আকার ধারন করে সেক্ষেত্রে ৩ দিন দুই বেলা একটি করে ডোজ খেতে হয়। তাহলে দেখা যায় তিন  দিনের মধ্যেই রোগটি সেরে গেছে।

ক্রিম এবং সাপোজিটরি ব্যবহার

বাজারে বর্তমানে অনেক কম্পানির এই ধরনের ক্রিম ও সাপোজিটরি পাওয়া যায় । আপনি যদি মনে করেন তাহলে আপনার সমস্যা হলে খুব সহজেই এটা ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে গর্ভকালীন সময়ে এই ধরনের চিকিৎসা করতে হয়। আর এর দ্বারা রোগ নিরাময় করতে চাইলে ৩ থেকে ৭ দিন সময় লেগে থাকে।

বিভিন্ন প্রকার ওষুধের মাধ্যমে

অনেক কম্পানির ওষুধ আছে যে গুলো আপনি খেলে বা ব্যবহার করলেই আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে কেনার সময় অবশ্যই ভাল মানের কম্পানির ওষুধ ক্রয় করবেন। কারণ বর্তমানে অনেক নকল কম্পানির ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় যা স্বাস্থ্যর জন্য খুবই ক্ষতি কর। ওষুধ গুলোর নাম হলো-

  1. বুটিকোনাজোল
  2. ক্লোট্রিম্যাজল।
  3. মাইকোন্যাজোল
  4. টেরাকোনাজোল

তবে যখনই আপনি কোন প্রকার ওষুধ খাবেন বা ব্যবহার করবেন তখন একজন ভাল চিকিৎসকের পরামর্শ ক্রমে তা গ্রহণ করবেন। তবে উপরের ওষুধ গুলো ব্যবহারে একটু জ্বালাপোড়া লাগতে পারে সেক্ষেত্রে ভয়ের কোন কারণ নেই।

যদি আপনার সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করে থাকে তাহলে আপনি নিম্নলিখিত ‍উপায়ে চিকিৎসা নিতে পারেন।

  • ফাঙ্গাস রোধী অধীক ডোজের চিকিৎসা:– এটা সাধারণ চিকিৎসার পরিবর্তে অধিক ডোজের চিকিৎসা দেয়া হয়। এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ফ্লাকোনাজোল । তবে খিয়াল রাখতে হবে আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে এই ওষুধটি খাওয়া যাবেনা।
  • দীর্ঘ মেয়াদী ভ্যাজাইনাল থেরাপি: কঠিন রোগের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি খুবই কার্যকরী সাধারনত ৭ থেকে ১৪ দিন অ্যাজোল চিকিৎসায় কার্যকরীভাবে ইস্ট সংক্রমণ নিরাময় হয়। আর এর জন্য সাধারনত ব্যবহার করা হয় ভ্যাজাইনাল ক্রিম,ভ্যাজাইনাল মলম, ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট বা সাপোজিটরি ।
  • ফ্লাকোনাজোল ওষুধ দ্বারা: এই ওষুধটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করতে হবে ছয় মাস ধরে সপ্তাহে একটিদন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

যোনি  ইনফেকশনের  প্রতিরোধ ব্যবস্থা

যোনিতে ইনফেকশন সমস্যা যেরকম খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আপনি যদি একটু সচেতন হন এই বাজে সমস্যার সমাধান পেয়ে যেতে পারেন খুব সহজেই। যা আপনার শরীরের ধারের কাছেও আসতে পারবে না। আপনি শুধু নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিদিন আপনার জীবনে করে যাবেন।

  • সবসময় পরিস্কার থাকতে হবে।
  • ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ার পর খিয়াল রাখতে হবে যৌনাঙ্গে কোন প্রকার চুলকানি বা র‌্যাস দেখা যায় কিনা।
  • মাসিকের সময় পরিস্কার কাপড় বা প্যাড ব্যবহার করতে হবে।
  • যৌনাঙ্গ সবসময় ভেজা রাখা যাবে না।
  • অধিক টাইট পেন্টি পরিধান করা যাবে না।
  • রঙিন টিস্যু পেপার বা অধীক খার যুক্ত সাবান যোনিতে ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • মাসিকের সময় একই প্যাড দীর্ঘ সময় পরিধান করে থাকা যাবে ন।

যোনি শুকিয়ে যায় কেন?

যাদের বয়স সাধারনত বেশি বা মেনোপজ হয়ে গিয়েছে বা হওয়ার কাছাকাছি তাদের এই ধরনে সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। আর তাদের জন্য এই সময়টায় যৌন মিলন খুবই কষ্ট্য হয়। আর এই কারণে এ সময় যৌন মিলনে অগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্ত যাদের বয়স ৪০ এর কম তাদের যদি এই সমস্য দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভ্যাজাইনাল সমস্যা আছে ।

আপনার কোন প্রকার শারীরিক সমস্যা আছে যার কারনে এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। সাধারণত শরীরে স্ত্রী হরমোনের পরিমাণ কমতে থাকলে আপনার শরীরে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার অনেক সময় কিছু অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্টের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেও এই রকম হতে পারে।

আবার অনেক সময় দেখা যায় জন্ম নিরোধক পিলও যোনি শুকিয়ে যাওয়ার জন্য ভুমিকা পালন করে থাকে। এই রোগটি দু-শ্চিন্তা বা দীর্ঘদিন রোগে আক্রান্ত থাকার কারনেও দেখা যায়। তাই মনে রাখবেন যদি হঠাৎ করে আপনার এইরকম সমস্যা দেখা যায় তাহলে সেটা মটেই কাম্য নয় । তাই সাথে সাথে ডাক্তারের পরমর্শ ক্রমে ওষুধ সেবন করুন । সারিয়ে তুলন আপনার এই ধরনের সমস্যা।

(কৃষি বিষয়ক ভিডিও পেতে এখানে ক্লিক করুন)

শেষ কথাটিও অনেক সুন্দর

পরিশেষে আপনাদের বলব আপনার স্বাস্থ্য আপনার সম্পদ। একজন সুস্থ মানুষ ই পারে একটি পরিবারকে সুস্থ ভাবে বেড়ে

উঠতে সাহায্য করতে। কারণ মা যদি সুস্থ না থাকে পরিবারের সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তাই আমাদের

পরিবারের প্রতিটি মা বোন যেন সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে, সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠে সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

তাই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই একে অপরের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখবেন। আর আপনার শরীরে এই ধরনের সমস্যা

দেখা দিলে সাথে সাথে সচেতন হয়ে উপরের দেয়া পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আপনার  সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা

করে এখানেই শেষ করছি। আজকের যোনিতে ইনফেকশন হলে করনীয় লেখাটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে,

অবশ্যই অবশ্যই শেয়ার করবেন। আমার এই সাইটে আরো অনেক ভালো ভালো লেখা আছে সেগুলোও আপনারা পড়তে

পারেন। ধন্যবাদ আপনাদের কষ্ট করে যোনিতে ইনফেকশন হলে করনীয় পড়ার জন্য।

আরো পড়তে পারেন:

১. দুধ ম্যাসাজ করার পদ্ধতি

২. কলা খাওয়ার উপকারিতা

৩. রসুন খাওয়ার উপকারিতা।

৪. যৌবন শক্তি বৃদ্ধির উপায়।

৫. যোনি ফর্সা করার উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *